আদিতমারীতে মৌলিক স্বাক্ষরতার শিক্ষকদের সম্মানিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

আদিতমারী (লালমনিরহাট)প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের শিক্ষকদের সম্মানি প্রদানে এক তৃতীয়াংশ ঘুষ হিসেবে কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (০৪ আগস্ট) দুপুরে ঘুষ বন্ধের দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা জানান, নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধিনে মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প চালু করে সরকার। লালমনিরহাটের আদিতমারী ও হাতীবান্ধা উপজেলায় তিনশত করে ৬শতটি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার।

প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০জন পুরুষ ও ৩০জন নারী পৃথক সময়ে শিক্ষার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়। এসব কেন্দ্রে একজন পুরুষ ও একজন নারী শিক্ষক মাসিক ২ হহাজার ৪শত টাকা সম্মানিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এদের সুপারভাইজ করতে সুপারভাইজার ও প্রোগ্রাম অফিসারও নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষা উপকরন ও কেন্দ্রের ব্যায় নির্বাহ করতে এনজিওকে বরাদ্ধ দেয় সরকার।

প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলে মুল্যায়নের নামে আদিতমারী উপজেলার ৬শত জন শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা আদায় করেন সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজাররা। যার অংশ প্রোগ্রাম অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের পকেটে যায় বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।টাকা না দিলে মুল্যায়ন পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে শিক্ষকদের সম্মানির জামানতে অর্থ বাতিলের হুমকী দেয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা এক হাজার টাকার বিনিময়ে মুল্যায়ন ফরম নিয়ে নিজেরাই পুরন করে শতভাগ পাশ দেখানো হয় এ প্রকল্পে। ফলে সরকারের এ প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

এ ছাড়াও শিক্ষকদের সম্মানির ৫০শতাংশ জামানতে অর্থ বিতরনেও নেয়া হয় শিক্ষক প্রতি এক হাজার টাকা। এ টাকা না দিলে সম্মানি না দেয়ার হুমকী দেয়া হয়। ফলে প্রথম দিকে বাধ্য হয়ে অনেকেই দিলেও দুপুরে ফুসে ওঠেন শিক্ষকরা। তারা ঘুষ বন্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ইউএনও আসাদুজ্জামানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অবশেষে ইউএনও গিয়ে ঘুষ নেয়া বন্ধ করে দেন এবং ইতিপুর্বে যারা ঘুষ নিয়েছেন তাদেরকে ওই অর্থ ফেরত দিতে বলেন। অন্যথায় সুপারভাইজারদের সম্মানি না দেয়ার ঘোষনা দেন।

রোববার (০৪ আগস্ট) দিনভর উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষকদের সম্মানির অর্ধেক জামানতের ৫০ শতাংশ ৩ হাজার ২৩০ টাকা প্রদান করা হয়। এ সময় সুপারভাইজাররা শিক্ষক প্রতি এক হাজার টাকা করে কেটে নেন।

উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের শিক্ষক দিপ্তী রানী ও বিথি রানী নিউজ বিজয়কে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলে আগে ৬শত এবং সম্মানির ৩হাজার ২৩০ টাকা তুলতে সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ এক হাজার টাকা করে কেটে নিয়েছেন। এটা সকলের কাছে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভেলাবাড়ির শিক্ষক পবিত্র কুমার ও মহিষখোচার শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম নিউজ বিজয়কে বলেন, প্রকাশ্যে মুল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বলেছি। কিন্তু তারা তা না করে শিক্ষক প্রতি এক হাজার টাকা নিয়ে একটি মুল্যায়ন ফরম দিয়েছেন সুপারবাইজাররা। এটা না দিলে অকৃতকার্য দেখিয়ে শিক্ষকদের সম্মানির জামানত অংশ বাতিলের হুমকী দেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই শিক্ষক প্রতি এক হাজার হারে টাকা দিতে হয়েছে। সেই টাকা ফেরত ও বিচার চেয়ে ইউএনও বরাবরে শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

আদিতমারী উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার শফিক হাসান নিউজ বিজয়কে বলেন, হলরুমে শিক্ষকদের সম্মানি দেয়া হচ্ছে।  হলরুমে গেটে কেউ টাকা নিলে সে দায়ভার আমার নয়।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আসাদুজ্জামান নিউজ বিজয়কে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রহন করা টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত সুপারভাইজারদের সম্মানি স্থগিত রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *