আদিতমারীতে এক প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার এক প্রধান শিক্ষকের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । তারই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার মহিষখোচা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম খাঁন তার একক প্রভাব খাটিয়ে সহকারী শিক্ষকদের তোয়াক্কা না করে সরকারী বরাদ্ধের সিলিপের অর্থ,প্রাক-প্রাথমিক ও বিজয়ফুল অনুষ্ঠানের টাকা আতœসাৎ করেন। তার এহেন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সহকারী শিক্ষক সফিয়ার রহমানকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী শুরু করেন।

সহকারী শিক্ষক সফিয়ার রহমান অসুস্থ্য থাকায় কয়েক দিন বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। সুস্থ্য হয়ে চিকিৎসা সনদ দিয়ে ছুটি প্রার্থনা করেন। কিন্তু এ ছুটি প্রথম দিকে নামঞ্জুর করলেও পরে ব্যাংক চেক মার্ফতে ২৯ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে আদায় করেন প্রধান শিক্ষক। একই ভাবে কয়েক দিন পর আবারও একই অজুহাতে ৭হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে গ্রহন করেন প্রধান শিক্ষক। এরপর তার চিকিৎসা জনিত ছুটি মঞ্জুর করেন। এমন ভাবে শিক্ষকদের ফাঁদে ফেলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম খাঁন ঘুষ আদায় করেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় । এদিকে ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি ঢাকতে প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে সহকারী শিক্ষকদের সাথে বৈঠকে বসে সত্যতা পাওয়ায় ২ হাজার ফেরত দেন বাকী টাকা পরে দেওয়া হবে বলে সময় নেন। পরবর্তীতে বাকী টাকা চাইতে গেলে সহকারী শিক্ষককের উপর বিভিন্ন প্রকার অমানবিক আচরন শুরু করেন। পরে নিরুপায় হয়ে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিয়ার রহমান গত ২৩ মার্চ প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মহিষখোচা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম খানকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাস হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিককে জানান, সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় এবং অনেকদিন অনুপস্থিত থাকার সুবাদে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করায় আমার বিরুদ্ধে যত সব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনএম শরিফুল ইসলাম খন্দকার সাংবাদিককে জানান, প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিককে জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিউজবিজয়২৪.কম/এফএইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published.