উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রাপ্তফল ১০৫: আ’লীগ ৭৯, বিদ্রোহী ২৫, জেপি ১

বিজয় ডেস্ক: আগের তিন ধাপের মতোই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটে ভোটারদের তেমন আগ্রহ দিনভর দেখা যায়নি। ১০৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে বেশিরভাগ উপজেলার বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। ১০৫ উপজেলার প্রাপ্ত ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭৯টি উপজেলায়। এর মধ্যে ভোটের আগেই ৩৯ উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছে ২৫ উপজেলায়। আর একটি উপজেলায় জয়ী হয়েছেন বাই সাইকেল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী।

রোববার (৩১ মার্চ) চতুর্থ ধাপে ভোট হওয়ার কথা ছিল ১২৮টি উপজেলায়। তবে আগেই স্থগিত হয়ে যায় ছয়টিতে। বাকি ১২২টি উপজেলার ১৫টিতে ভোট হয়নি। এগুলোতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফল নিষ্পত্তি হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন যারা-

ঢাকা বিভাগ:

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মুজাহিদুর রহমান, রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের শাহজাহান ভূঁইয়া ।

মুন্সীগঞ্জের সদরে আওয়ামী লীগের আনিসুজ্জামান আনিস, সিরাজদীখানে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন আহমেদ ।

টাঙ্গাইল সদরে শাজাহান আনসারী, ঘাটাইলে শহীদুল ইসলাম লেবু, সখিপুরে জুলফিকার হায়দার কামাল, ভূয়াপুরে মো. আব্দুল হালিম ও মির্জাপুরে মীর এনায়েত হোসেন মন্টু; এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন ধনবাড়ীতে হারুন-অর-রশিদ হিরা, মধুপুরে সরোয়ার আলম খান আবু ও গোপালপুরে ইউনুস ইসলাম তালুকদার।

ঢাকা জেলার সাভারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব, কেরানীগঞ্জে শাহীন আহমেদ ও দোহারে আলমগীর হোসেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।

চট্টগ্রাম বিভাগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক বাদশা, চাটখিলে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির , বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন সেনবাগে জাফর আহম্মেদ চৌধুরী, সোনাইমুড়ীতে খন্দকার রুহুল আমিন, সুবর্ণচরে খায়রুল আনম চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জে মো. শাহাব উদ্দিন। নোয়াখালীর সেনবাগে জাফর আহমেদ চৌধুরী, সোনাইমুড়ীতে খন্দকার রুহুল আমিন, সুবর্ণচরে অধ্যক্ষ খাইরুল আনম সেলিম ও কোম্পানীগঞ্জে সাহাব উদ্দিন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ফিরোজুর রহমান ওলি, নাসিরনগরে আওয়ামী লীগের রাফিউদ্দীন, সরাইলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রফিক উদ্দীন ঠাকুর, আশুগঞ্জে জয়ী আওয়ামী লীগের মো. হানিফ মুন্সি, নবীনগরে আওয়ামী লীগের কাজী জহির উদ্দীন সিদ্দিক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী আখাউড়ায় আবুল কাসেম ভূইয়া ও কসবায় অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন।

কুমিল্লার হোমনায় রেহানা মজিদ ও মুরাদনগরে আহসানুল হক সরকার। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চৌদ্দগ্রামে আব্দুস সোবহান ভুইয়া হাসান, নাঙ্গলকোটে শামসুদ্দিন হায়দার কালু, লাকসামে অ্যাডভোকেট ইউনুস ভূইয়া, মনোহরগঞ্জে মো. জাকির হোসেন ও দেবীদ্বারে জয়নাল আবেদীন।

ফেনীর ফুলগাজীতে আব্দুল আলিম, সোনাগাজীতে জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, দাগনভূঞায় দিদারুল কবির রতন, ছাগলনাইয়ায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ও পরশুরামে কামাল উদ্দিন মজুমদার।

খুলনা বিভাগ

খুলনার রূপসায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের কামালউদ্দিন বাদশা, কয়রায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এস এম শফিকুল ইসলাম, দাকোপে জয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মুনসুর আলী খান, পাইকগাছায় জয়ী আওয়ামী লীগের গাজী মো. আলী, তেরখাদায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. শহিদুল ইসলাম। ফুলতলা ও ডুমুরিয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। কখুলনার ফুলতলায় শেখ আকরাম হোসেন ও বটিয়াঘাটায় আশরাফুল আলম খান বিনা ভোটে জয়ী।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিজয়ী আওয়ামী লীগের শাহী আলম বাচ্চু,ফকিরহাটে জয়ী আওয়ামী লীগের স্বপন দাস ও, মোল্লারহাটে জয়ী আওয়ামী লীগের শাহীনুর আলম ছানা। বিনা ভোটে নির্বাচিত বাগেরহাট সদরে সরদার নাসির উদ্দিন, মোংলায় আবু তাহের হাওলাদার, চিতলমারীতে অশোক কুমার বড়াল,রামপালে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন ও শরণখোলায় কামাল উদ্দিন আকন।

যশোরের বাঘারপাড়ায়আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নাজমুল ইসলাম কাজল, ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মনিরুল ইসলাম, চৌগাছায় আওয়ামী লীগের ড. মোস্তানিসুর রহমান, অভয়নগরে আওয়ামী লীগের শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর, মনিরামপুরে আওয়ামী লীগের নাজমা খানম, কেশবপুরে জয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাজী রফিকুল ইসলাম। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত যশোর সদরে শাহীন চাকলাদার ও শার্শায় সিরাজুল হক মঞ্জু।

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হক সায়েম, ফুলপুরে আওয়ামী লীগের আতাউল করিম রাসেল ও ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান সুমন। বিনাভোটে নির্বাচিত ময়মনসিংহ সদরে আশরাফ হোসাইন, গফরগাঁওয়ে আশরাফ উদ্দিন বাদল ও ফুলবাড়ীয়ায় মালেক সরকার, গৌরীপুরে আ’লীগ বিদ্রোহী মোফাজ্জল হোসেন, নান্দাইলে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী হাসান মাহমুদ জুয়েল, মুক্তাগাছায় আ’লীগ বিদ্রোহী আবদুল হাই আকন্দ ও ধোবাউড়ায় আ’লীগ বিদ্রোহী ডেভিড রানা।

বরিশাল বিভাগ

পটুয়াখালীর সদরে বিজয়ী আওয়ামী লীগের গোলাম সারওয়ার , গলাচিপা উপজেলায় আওয়ামী লীগের মো. শাহিন , কলাপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের এস এম রাকিবুল আহসান , মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবু বকর সিদ্দিক , দুমকী উপজেলায় আওয়ামী লীগের হারুনর রশিদ হাওলাদার, বাউফল উপজেলায় আওয়ামী লীগের আবদুল মোতালেব হাওলাদার।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোশারফ হোসেন দুলাল, লালমোহন উপজেলায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। ভোললা সদরে মোশারফ হোসেন, চরফ্যাশনে জয়নাল আবেদীন আকন, মনপুরায় সেলিনা আক্তার ও দৌলতখানে মঞ্জুরুল আলম খান বিনাভোটে নির্বাচিত।

বরগুনার সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. মনিরুল ইসলাম (, আমতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গোলাম সারওয়ার ফোরকান, বেতাগী উপজেলায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের মাকসুদুর রহমান ফোরকান, বামনা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম লিটু , পাথরঘাটা উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোস্তফা গোলাম কবির।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বিজয়ী জাতীয় পার্টির (জেপি) আবু সাঈদ মিয়া মনু , ইন্দুরকানী উপজেলায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের এম মতিউর রহমান, নাজিরপুর উপজেলায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের অমূল্য রঞ্জন হালদার। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মিরাজুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.