একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বীরগঞ্জের মানুষ

সিদ্দিক হোসেন দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আত্রাই নদীর ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতু জন্য এমপি-মন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিয়েই যাচ্ছে এলাকাবাসী। ফেসবুকে চলছে আন্দোলন সংগ্রামের কার্যক্রম। আন্দোলনকারীরা মানববন্ধনসহ স্থানীয় বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। নির্বাচনের আগে এলাকার মানুষের কাছে সেতু নির্মাণে জন প্রতিনিধিরা আশা দিলেও স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি দীর্ঘ দিনের লালায়িত স্বপ্নের সেতুটি।

সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা গত ১৫ মে ২০১৮ইং তারিখে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ২১ মে ২০১৮ইং তারিখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ২৩ মে ২০১৮ইং তারিখে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কবে হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি কেউ। এ দিকে ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট এই সেতুর জন্য জেলার বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন, খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নসহ ঠাকুরগাঁও এবং নীলফামারীর লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর তাই সেতুটি হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।

সরজমিনে জানা যায়, বন্যা আসতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও এলাকার লোকজন হতাশায় ভুগছেন তাদের ঘর-বাড়ী নিয়ে। গত ২০১৭ সালের বন্যায় এলাকার ব্যাপক ঘর-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট ও জানমালের ক্ষতিসাধিত হয়েছিল।

এ বিষয়ে নীলফামারী সরকারি কলেজের বাংলা (অনার্স) বিভাগের ছাত্র মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকে কখনও বাঁশের সাঁকো আবার কখন নৌকা দিয়ে নদী পেরিয়ে স্কুল-কলেজে গিয়েছি। স্বপ্ন দেখতাম একদিন সেতুর ওপর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজ যাব। কিন্তু শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। সেতুটির প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না।

খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের বৃদ্ধা বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখি আসুছু নদীটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো। এলাও ওরকমই আছে। বিয়াও হয়া শ্বশুরবাড়ি গেনু। ছাওয়ালের মা হনু, এ্যালাও ব্রিজ হলি না।

নিউজবিজয়২৪.কম/এ্ফএইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published.