একুশে পদকপ্রাপ্ত ঝর্ণাধারা চৌধুরী আর নেই

বিজয় ডেস্ক: একুশে পদকপ্রাপ্ত গান্ধীবাদী কর্মী ঝর্ণাধারা চৌধুরী (৮০) আর নেই।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

গান্ধী আশ্রমের পরিচালক রাহা নব কুমার জানান, ঝর্ণাধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১ জুন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে পরদিন তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার হাসপাতালেই তার মস্তিস্কে দ্বিতীয়বারের মতো রক্তক্ষরণ হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে আর জীবনে ফেরাতে পারেননি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঝর্ণাধারা চৌধুরীর কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় জন্মগ্রহণ করেন ঝর্ণাধারা চৌধুরী। তিনি গান্ধীবাদের দিক্ষা পান পরিবার থেকেই। বাবা গান্ধীয়ান প্রথম চৌধুরীর মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে ঝর্ণাধারা যোগ দেন গান্ধীর প্রতিষ্ঠিত অম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্টে। সেটাই এখন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট নামে পরিচিত।

১৯৬০ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘে যোগ দেন ঝর্ণাধারা। সমাজকর্মের পাশাপাশি পড়ালেখাও চালিয়ে যান।

চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় ত্রাণ কাজেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

ঝর্ণাধারা ১৯৭৯ সালে ফিরে যান গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টে। মহাত্মা গান্ধীর সহচর চারু চৌধুরী ১৯৯০ সালে মারা গেলে ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পান ঝর্ণাধারা। আমৃত্যু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঝর্ণাধারা চৌধুরী ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া বেগম রোকেয়া পদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা সম্মাননা পেয়েছেন এই সমাজকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.