ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কাউনিয়ায় ভোটে জেতার পর টাকা ফেরত নিলেন জেলা পরিষদ সদস্য

Up to BDT 150 Cashback on New Connection

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েও ভোটার (ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের)কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা।
টাকা ফেরত চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের হুমকী ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। জেলা পরিষদের সদস্য আলতাব হোসেনের এই কর্মকা- নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ভোটের আগের রাত সাড়ে তিনটার দিকে আলতাব হোসেন আমার বাড়ী আসে।
এরপর তাকে ভোট দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে ১ লাখ এবং পুরুষ ও নারী সদস্যদের ৫০ হাজার করে টাকা দেন। নির্বাচনে জেতার পরও ভোটের পরের দিন চেয়ারম্যানসহ সকলের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ফেরত নিয়েছেন। ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার আবুল কাশেম বলেন, আলতাব ভোটে জেতার পর ফোনে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিজ করে এবং সবাইকে টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে আলতাবকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমরা সবাই তাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। ওই ইউনিয়নের আরেক সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ভোট কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহ মিস্টি এবং শাড়ি পাঞ্জাবির টাকাও ফেরত দিয়েছি আমরা সবাই আলতাবকে। ওই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আলতাবের কাছ থেকে ভোটের জন্য আমরা কেউ টাকা চাইনি। আলতাব নিজেই ইউনুস আলী মেম্বারের বাড়ীতে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে জোড় করে তাকে ভোট দেয়ার জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছিল।
ভোটে জেতার পরও আমরা নাকি তাকে ভোট দেই নাই এমন অভিয্ধোসঢ়;গ তুলে আমাদের কাছ থেকে টাকা ও গিফট ফেরত চান। টাকা ফেরত না দিলে আমাদেরকে অপদস্থ করা হবে। সম্মানের ভয়ে আমরা সবাই টাকা ফেরত দিয়েছি। একই ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য রুহি বেগম বলেন, শুধু নগদ টাকাই নয়, ভোটের আগে দেয়া মিস্টি, বাড়ির বাচ্চাদের জন্য দেয়া উপহার সামগ্রী এবং পাঞ্জাবী ও শাড়িও ফেরত নিয়েছেন আলতাফ। তিনি বলেন, আমরা এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার ভোট বিক্রি করা সঠিক হয়নি বললেও আমরা এই ভোট বাতিলের দাবি জানাই। তবে টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম ভোট বেচা কেনার টাকা ফেরত দেয়া বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে রংপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আলতান হোসেন বলেন, আমি নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে আমি দিনে-রাতে জনপ্রতিনিধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তার আমাকে সম্মানিত করেছে। আমি কাউকে টাকা দেই নাই, কারও কাছে টাকা ফেরতও চাইনি। যারা টাকা ফেরতের প্রসঙ্গে কথা বলছে তারা পরাজিত প্রার্থীর কথায় জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রশ্ন বিদ্ধ করার পায়তারা করছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৭ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাউনিয়া উপজেলা তথা (০২ নং ওয়ার্ডে) সদস্য প্রার্থী ছিলেন আলতাব হোসেন, গোলাম সারোয়ার বাবু ও মিজানুর রহমান মিজান । নির্বাচনে ৫২ ভোট পেয়ে আলতাব হোসেন সদস্য নির্বাচিত হন।
তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ৪০ ভোট ও মিজানুর রহমান মিজান ১ ভোট পান।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধুর হবু স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; ইমাম, শিক্ষক, ছাত্র গ্রেপ্তার

কাউনিয়ায় ভোটে জেতার পর টাকা ফেরত নিলেন জেলা পরিষদ সদস্য

প্রকাশিত সময়: ১১:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েও ভোটার (ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের)কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তোলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা।
টাকা ফেরত চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের হুমকী ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। জেলা পরিষদের সদস্য আলতাব হোসেনের এই কর্মকা- নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুস আলী বলেন, ভোটের আগের রাত সাড়ে তিনটার দিকে আলতাব হোসেন আমার বাড়ী আসে।
এরপর তাকে ভোট দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে ১ লাখ এবং পুরুষ ও নারী সদস্যদের ৫০ হাজার করে টাকা দেন। নির্বাচনে জেতার পরও ভোটের পরের দিন চেয়ারম্যানসহ সকলের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ফেরত নিয়েছেন। ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার আবুল কাশেম বলেন, আলতাব ভোটে জেতার পর ফোনে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিজ করে এবং সবাইকে টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে আলতাবকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমরা সবাই তাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। ওই ইউনিয়নের আরেক সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ভোট কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহ মিস্টি এবং শাড়ি পাঞ্জাবির টাকাও ফেরত দিয়েছি আমরা সবাই আলতাবকে। ওই ইউনিয়নের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আলতাবের কাছ থেকে ভোটের জন্য আমরা কেউ টাকা চাইনি। আলতাব নিজেই ইউনুস আলী মেম্বারের বাড়ীতে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে জোড় করে তাকে ভোট দেয়ার জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছিল।
ভোটে জেতার পরও আমরা নাকি তাকে ভোট দেই নাই এমন অভিয্ধোসঢ়;গ তুলে আমাদের কাছ থেকে টাকা ও গিফট ফেরত চান। টাকা ফেরত না দিলে আমাদেরকে অপদস্থ করা হবে। সম্মানের ভয়ে আমরা সবাই টাকা ফেরত দিয়েছি। একই ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য রুহি বেগম বলেন, শুধু নগদ টাকাই নয়, ভোটের আগে দেয়া মিস্টি, বাড়ির বাচ্চাদের জন্য দেয়া উপহার সামগ্রী এবং পাঞ্জাবী ও শাড়িও ফেরত নিয়েছেন আলতাফ। তিনি বলেন, আমরা এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার ভোট বিক্রি করা সঠিক হয়নি বললেও আমরা এই ভোট বাতিলের দাবি জানাই। তবে টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম ভোট বেচা কেনার টাকা ফেরত দেয়া বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে রংপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য আলতান হোসেন বলেন, আমি নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে আমি দিনে-রাতে জনপ্রতিনিধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। তার আমাকে সম্মানিত করেছে। আমি কাউকে টাকা দেই নাই, কারও কাছে টাকা ফেরতও চাইনি। যারা টাকা ফেরতের প্রসঙ্গে কথা বলছে তারা পরাজিত প্রার্থীর কথায় জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রশ্ন বিদ্ধ করার পায়তারা করছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৭ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাউনিয়া উপজেলা তথা (০২ নং ওয়ার্ডে) সদস্য প্রার্থী ছিলেন আলতাব হোসেন, গোলাম সারোয়ার বাবু ও মিজানুর রহমান মিজান । নির্বাচনে ৫২ ভোট পেয়ে আলতাব হোসেন সদস্য নির্বাচিত হন।
তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম সারোয়ার ৪০ ভোট ও মিজানুর রহমান মিজান ১ ভোট পান।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন