কিশোরী বিক্রির দায়ে ডোমারের দেহব্যবসায়ী শিল্পী আটক

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ডোমারে কিশোরী কন্যাকে যৌনপল্লীতে বিক্রির দায়ে দেহব্যবসায়ী শিল্পীকে আটক করেছে পুলিশ।

মাত্র ৩০ হাজার টাকায় নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করছিলো পাষন্ড পিতা এরশাদ আলী (৩৫) তার সহযোগী যৌনকর্মী শিল্লী আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে আটক করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। জানা যায়, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার হোসেনপুর গ্রাামের আজগর সোনার ছেলে এরশাদ আলী তার নিজের ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নীলফমারী জেলার ডোমার উপজেলার পাংগা মটুকপুর ইউনিয়নের পাংগা চৌপতি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে শিল্পীর কাছে নিজের মেয়েকে বিক্রি করে। শিশুটিকে নিয়ে গত রবিবার রাত ৯টার গোয়ালন্দ ঘাট যৌনপল্লীতে নিয়ে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিশুর পিতা এরশাদ ও যৌনকর্মী শিল্পীকে আটক করে। এবিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই ওলিয়ার রহমান বাদী হয়ে আটকরকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। বিক্রির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া কিশোরী জানায়, তার বাবা মায়ের অনেক আগেই ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। বাবা ও মা দুজনই আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করছে। সে কখনো দাদির কাছে, কখনো ফুপুর কাছে আবার কখনো মায়ের কাছে থাকতো। এ পরিস্থিতিতে তার বাবা এরশাদ কন্যাকে ঢাকায় ভাল বাড়ীতে রাখার নামকরে সরাসরি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে। এ সময় কিশোরী কান্না করতে করতে বলে, ‘আব্বু ভূল করে ফেলেছে, আব্বুকে ভালো হওয়ার জন্য একবার সুযোগ দেন স্যার। এ সময় এক নরপশু পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সে কোথায় যেতে চায় জানতে চাইলে সে জানায়, ‘আমি আমার মায়ের কাছে যেতে চাই। এরশাদ আলী ও যৌনকর্মী শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বাবা এরশাদ আলীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সূত্র ধরে যৌনকর্মী শিল্পীর সঙ্গে পরিচয়। এরশাদ আলী শিল্পীকে প্রস্তাব দেয় একটি মেয়ে এনে দিলে তাকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু শিল্পী তাকে ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। এই ৩০ হাজার টাকার জন্যই এরশাদ আলী তার মেয়েকে যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী জানান, প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল রাতে ছদ্মবেশে যৌনপল্লীতে বিক্রির সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় হাতেনাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নির্ভরযোগ্য কোন অভিভাবক না থাকায় আদালতের মাধ্যেমে ১৮ বছর না হওয়ার পর্যন্ত সরকারি সেফ হোমে রাখার আবেদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon