ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যুবককে জবাই করে হত্যা! সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি আটক 

উলিপুরে রফিকুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যার পর গলাকাটা লাশ রাস্তার ধারের একটি বাঁশ ঝাড়ে রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা । ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামে। উলিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর লাশ উদ্ধার করে । হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সকালেই কুড়িগ্রাম থেকে সিআইডির একটি দল ঘটনা স্থলে পৌঁছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উলিপুর থানার এসআই মশিউর রহমান জবাই করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। লোমহর্ষক এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় এলাকার মানুষ জনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ একই গ্রামের প্রতিবেশী আলিফ উদ্দিনের পুত্র গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৩৫)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এছাড়া আলামত হিসেবে তার পড়নের একটি ভেজা প্যান্ট ও একজোড়া জুতা জব্দ করেছে ।

 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
হত্যাকাণ্ডের শিকার রফিকুল ইসলাম ধরনী বাড়ি তেলিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন ফাগুর পুত্র। সে এক সময় বুট,বাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত,পরে ভালো ভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য অটো চালাত। তার স্ত্রী লাইজু বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে উলিপুর আশা অফিস থেকে ঋণপত্র স্বাক্ষর করে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করি। এরপর সন্ধ্যার দিকে দু’জনে অটোতে করে বাড়ি যাওয়ার পথে বাড়ির পাশে রাস্তায় স্ত্রী লাইজু বেগমকে নামিয়ে দিয়ে রফিকুল স্ত্রীকে বলেন, “তুমি বাড়ি যাও আমি একজনের কাছে টাকা পাবো মাঝবিল বাজারে যেতে হবে” এরপর আর তার সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী বাসায় না ফেরায় লাইজু বেগম বেশ উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তিনি বলেন, ঋণের ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও তার স্বামীর কাছে কিছুদিন আগে তাদের অটো বিক্রির ৮০ হাজার টাকা ছিল। কি কারনে আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো আমি কিছুই জানিনা, আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে লাইজুর জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সকালে এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর জানাজানি হলে লাইজু বেগম গিয়ে তার স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, মাঝবিল বাজার যাওয়ার পর রফিকুল তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রতিবেশী ভাতিজা আলিপ উদ্দিনের পুত্র গরু ব্যবসায়ী রফিকুলকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়, পরবর্তীতে তারা দুজনে কোথায় গিয়েছে কি করেছে তা কারো জানা নেই।
এরপর গরু ব্যবসায়ী রফিকুল বাড়িতে আসলেও লাইজুর স্বামী অটো চালক রফিকুলের জবাই করা লাশ রাস্তায় পড়ে থাকে। লাশ দেখার পর একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ হত্যাকান্ডের পিছনে কোন পেশাদার খুনির ভূমিকা রয়েছে, তাছাড়া এভাবে মানুষকে গরুর মত করে জবাই করা সম্ভব নয়!
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে উলিপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সিআইডির একটি দল মাঠে কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

Up to BDT 650 benefits on New Connection

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy24

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।

Nagad-Fifa-WorldCup

মহালছড়িতে মা ও ছেলে দেশীও মদসহ আটক

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যুবককে জবাই করে হত্যা! সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি আটক 

প্রকাশিত সময়: ০৭:০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩

উলিপুরে রফিকুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যার পর গলাকাটা লাশ রাস্তার ধারের একটি বাঁশ ঝাড়ে রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা । ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামে। উলিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৬ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর লাশ উদ্ধার করে । হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সকালেই কুড়িগ্রাম থেকে সিআইডির একটি দল ঘটনা স্থলে পৌঁছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উলিপুর থানার এসআই মশিউর রহমান জবাই করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। লোমহর্ষক এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় এলাকার মানুষ জনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ একই গ্রামের প্রতিবেশী আলিফ উদ্দিনের পুত্র গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৩৫)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এছাড়া আলামত হিসেবে তার পড়নের একটি ভেজা প্যান্ট ও একজোড়া জুতা জব্দ করেছে ।

 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
হত্যাকাণ্ডের শিকার রফিকুল ইসলাম ধরনী বাড়ি তেলিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন ফাগুর পুত্র। সে এক সময় বুট,বাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত,পরে ভালো ভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য অটো চালাত। তার স্ত্রী লাইজু বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে উলিপুর আশা অফিস থেকে ঋণপত্র স্বাক্ষর করে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করি। এরপর সন্ধ্যার দিকে দু’জনে অটোতে করে বাড়ি যাওয়ার পথে বাড়ির পাশে রাস্তায় স্ত্রী লাইজু বেগমকে নামিয়ে দিয়ে রফিকুল স্ত্রীকে বলেন, “তুমি বাড়ি যাও আমি একজনের কাছে টাকা পাবো মাঝবিল বাজারে যেতে হবে” এরপর আর তার সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী বাসায় না ফেরায় লাইজু বেগম বেশ উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তিনি বলেন, ঋণের ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও তার স্বামীর কাছে কিছুদিন আগে তাদের অটো বিক্রির ৮০ হাজার টাকা ছিল। কি কারনে আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো আমি কিছুই জানিনা, আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে লাইজুর জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সকালে এলাকায় লাশ পড়ে থাকার খবর জানাজানি হলে লাইজু বেগম গিয়ে তার স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, মাঝবিল বাজার যাওয়ার পর রফিকুল তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রতিবেশী ভাতিজা আলিপ উদ্দিনের পুত্র গরু ব্যবসায়ী রফিকুলকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়, পরবর্তীতে তারা দুজনে কোথায় গিয়েছে কি করেছে তা কারো জানা নেই।
এরপর গরু ব্যবসায়ী রফিকুল বাড়িতে আসলেও লাইজুর স্বামী অটো চালক রফিকুলের জবাই করা লাশ রাস্তায় পড়ে থাকে। লাশ দেখার পর একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এ হত্যাকান্ডের পিছনে কোন পেশাদার খুনির ভূমিকা রয়েছে, তাছাড়া এভাবে মানুষকে গরুর মত করে জবাই করা সম্ভব নয়!
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে উলিপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সিআইডির একটি দল মাঠে কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আশরাফুজ্জামান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন