ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের রৌমারী গুমের ১২০ দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছ পুলিশ

১২০ দিন পর নিখোঁজ শালুর বস্তাবন্দি লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে রৌমারী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকাল ৪ টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বাগেরহাট নামক একটি বাজারের দক্ষিণ পাশে দুইশ গজ দুরে একটি পরিত্যক্ত জমির জিগ্নি গাছের নিচ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার রাতে একটি অপহরণ মামলায় জাকির হোসেন (৫০) নামের এক ইউপি সদস্যকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে রৌমারী থানায় আনে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাকে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৫০) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর কাউয়ারচর নওদাপাড়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে এবং তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য। অপহরণ হওয়া শালু মিয়া (৩৫) একই ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত চাঁন মন্ডলের ছেলে।

রৌমারী থানার ওসি (তদন্ত) এমআর সাঈদ জানান, ২০২২ সালের ১১ ফেব্রয়ারি রাতে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত চাঁন মন্ডলের ছেলে শালু মিয়াকে (৩৫) অপহরণ ও গুমের ঘটনায় (২৭ ফেরুয়ারি) তার ভাই আব্দুস ছালাম মন্ডল থানায় একটি
সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর তার পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এতে তার সন্ধান না পেয়ে স্ত্রী রেজেকা বেগম বাদি হয়ে (২৯ এপ্রিল) ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় একটি
অপহরণ মামলা করেন। এরপর আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানায় আনা হয়।

ইজাহার সূত্রে জানা গেছে, শালু মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শালু মিয়াকে মোবাইল ফোনে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের স্লুইজগেট এলাকায় আসতে বলেন জাকির হোসেন। তার কল পেয়ে দ্রুত সেখানে চলে যান শালু।
এসময় তার স্ত্রী রেজেখা পিছু পিছু যান। গিয়ে দেখেন ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জন আগে থেকেই ওই জায়গায় অবস্থান করছিলেন।
পরে শালুকে সেখান থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান তারা। পরে তাদের কাছে সন্ধান জানতে চাইলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেন ভুক্তভোগি পরিবারকে। অনেক খোঁজা-খুজির পর তার সন্ধান না পেয়ে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ আরও অজ্ঞাত তিন জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন শালু মিয়ার স্ত্রী রেজেকা খাতুন।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, অপহরণ মামলায় ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি নিয়ে গুম হওয়া শালুর লাশ একটি কৃষি জমির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্ধি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আজ শুক্রবার ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে।
নিউজবিজয়/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy24

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

Nagad-Fifa-WorldCup

ইতিহাসের এই দিনে: ৩১ জানুয়ারি-২০২৩

google.com, pub-9120502827902997, DIRECT, f08c47fec0942fa0

কুড়িগ্রামের রৌমারী গুমের ১২০ দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছ পুলিশ

প্রকাশিত সময়: ০১:০৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

১২০ দিন পর নিখোঁজ শালুর বস্তাবন্দি লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে রৌমারী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকাল ৪ টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বাগেরহাট নামক একটি বাজারের দক্ষিণ পাশে দুইশ গজ দুরে একটি পরিত্যক্ত জমির জিগ্নি গাছের নিচ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার রাতে একটি অপহরণ মামলায় জাকির হোসেন (৫০) নামের এক ইউপি সদস্যকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে রৌমারী থানায় আনে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে তাকে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৫০) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর কাউয়ারচর নওদাপাড়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে এবং তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য। অপহরণ হওয়া শালু মিয়া (৩৫) একই ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত চাঁন মন্ডলের ছেলে।

রৌমারী থানার ওসি (তদন্ত) এমআর সাঈদ জানান, ২০২২ সালের ১১ ফেব্রয়ারি রাতে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত চাঁন মন্ডলের ছেলে শালু মিয়াকে (৩৫) অপহরণ ও গুমের ঘটনায় (২৭ ফেরুয়ারি) তার ভাই আব্দুস ছালাম মন্ডল থানায় একটি
সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর তার পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এতে তার সন্ধান না পেয়ে স্ত্রী রেজেকা বেগম বাদি হয়ে (২৯ এপ্রিল) ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় একটি
অপহরণ মামলা করেন। এরপর আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানায় আনা হয়।

ইজাহার সূত্রে জানা গেছে, শালু মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শালু মিয়াকে মোবাইল ফোনে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের স্লুইজগেট এলাকায় আসতে বলেন জাকির হোসেন। তার কল পেয়ে দ্রুত সেখানে চলে যান শালু।
এসময় তার স্ত্রী রেজেখা পিছু পিছু যান। গিয়ে দেখেন ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জন আগে থেকেই ওই জায়গায় অবস্থান করছিলেন।
পরে শালুকে সেখান থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান তারা। পরে তাদের কাছে সন্ধান জানতে চাইলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেন ভুক্তভোগি পরিবারকে। অনেক খোঁজা-খুজির পর তার সন্ধান না পেয়ে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, খয়বর আলীসহ আরও অজ্ঞাত তিন জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন শালু মিয়ার স্ত্রী রেজেকা খাতুন।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, অপহরণ মামলায় ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি নিয়ে গুম হওয়া শালুর লাশ একটি কৃষি জমির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্ধি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আজ শুক্রবার ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে।
নিউজবিজয়/এফএইচএন