ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছে কৃষক

যশোরের কেশবপুরে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। আর এর পেছনে কৃষি অফিসের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে। এখানকার উর্বর মাটিতে বিদেশী এ ফল চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলছেন উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম। তাঁর বাগানে ড্রাগনফল চারা রোপণের ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরছে। তার বর্তমানে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগনফল চাষ করেছেন এবং এ বছরেই তিনি আরো ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ বৃদ্ধি করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তার বাগানে ৫হাজার ২০০ টি চারা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এখন তার বাগানে প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি ফল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। গাছের বয়স যত বৃদ্ধি পাবে ফলনও তত বাড়বে। আর এভাবে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে কোটি টাকারও বেশী ফল উৎপাদন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ প্রজাতির গাছ প্রায় ১০০বছর বাঁচে। ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল উৎপাদন হয়। পরে উৎপাদন কমতে থাকে। তার স্বপ্ন উপজেলাব্যাপী ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা। তাঁর সাফল্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোটবড় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তার পরামর্শে দামী ফল ড্রাগনচাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। ড্রাগন একটি বিদেশী ফল। এ ফলের তিনটি জাত রয়েছে। যেমন-লাল ড্রাগন, কোস্টারিকা ড্রাগন ও হলুদ ড্রাগন। একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কখনো কখনো ফলের ওজন এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাকা ফলের শাঁস বেশ নরম, কালোজিরার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজযুক্ত, হালকা মিষ্টি। তার ড্রাগন বাগান দেখে এ উপজেলার তেইশ মাইলের রেজাউল ও আওয়ালগাতী গ্রামের আব্দুল লতিফসহ অনেক চাষী এখন ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। রোপনের পর অল্পদিনে উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় কেশবপুরসহ পাশ^বর্তী উপজেলার অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুুরাজ সরকার বলেন, ড্রাগন ফলের জন্য শুষ্ক জলবায়ু দরকার। মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে ভালো হয়। কেশবপুরের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে। ড্রাগন ফল একটি লাভজনক ফসল। এর আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy24

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ
google.com, pub-9120502827902997, DIRECT, f08c47fec0942fa0

কেশবপুরে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছে কৃষক

প্রকাশিত সময়: ১০:১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০২২

যশোরের কেশবপুরে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। আর এর পেছনে কৃষি অফিসের ব্যাপক ভুমিকা রয়েছে। এখানকার উর্বর মাটিতে বিদেশী এ ফল চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তুলছেন উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম। তাঁর বাগানে ড্রাগনফল চারা রোপণের ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরছে। তার বর্তমানে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগনফল চাষ করেছেন এবং এ বছরেই তিনি আরো ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ বৃদ্ধি করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তার বাগানে ৫হাজার ২০০ টি চারা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এখন তার বাগানে প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি ফল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। গাছের বয়স যত বৃদ্ধি পাবে ফলনও তত বাড়বে। আর এভাবে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে কোটি টাকারও বেশী ফল উৎপাদন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ প্রজাতির গাছ প্রায় ১০০বছর বাঁচে। ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল উৎপাদন হয়। পরে উৎপাদন কমতে থাকে। তার স্বপ্ন উপজেলাব্যাপী ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা। তাঁর সাফল্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোটবড় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তার পরামর্শে দামী ফল ড্রাগনচাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। ড্রাগন একটি বিদেশী ফল। এ ফলের তিনটি জাত রয়েছে। যেমন-লাল ড্রাগন, কোস্টারিকা ড্রাগন ও হলুদ ড্রাগন। একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কখনো কখনো ফলের ওজন এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাকা ফলের শাঁস বেশ নরম, কালোজিরার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজযুক্ত, হালকা মিষ্টি। তার ড্রাগন বাগান দেখে এ উপজেলার তেইশ মাইলের রেজাউল ও আওয়ালগাতী গ্রামের আব্দুল লতিফসহ অনেক চাষী এখন ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। রোপনের পর অল্পদিনে উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় কেশবপুরসহ পাশ^বর্তী উপজেলার অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুুরাজ সরকার বলেন, ড্রাগন ফলের জন্য শুষ্ক জলবায়ু দরকার। মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে ভালো হয়। কেশবপুরের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে। ড্রাগন ফল একটি লাভজনক ফসল। এর আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

নিউজবিজয়২৪/এফএইচএন