কেশবপুর শিকারপুরে ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত লাশের রহস্য উদঘাটন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামে বোরো ধান ক্ষেত থেকে ১০ মার্চ দুপুরে উদ্ধারকৃত ব্যক্তির হত্যা রহস্য প্রকাশ হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা জেসমিন নাহার মুক্তা নামের এক গৃহবধু। ওই গৃহবধুর সাথে ছিল দু’যুবকের পরকীয়া। উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মেহেদী হাসান মন্টুর সাথে গৃহবধুর ছিল পরকীয়া। এছাড়া গৃহবধু পিতার বাড়ি এলাকা তালা থানার শার্শা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে কবির হোসেন (২৬) এর সাথেও ছিল পরকিয়া। মহিলার স্বামী শফিকুল ইসলাম ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করার সুযোগে স্ত্রী দু’যুবকের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত থাকার কথা গ্রামের অনেকেই জানতেন। ঘটনার দিন ৯ মার্চ রাতে দু’সন্তানের জনক নিহত কবির শিকারপুর গ্রামে এসে ওই মহিলার স্বামীর বাড়িতে যায়। এমনকি অন্তসত্বা ওই গৃহবধুর সাথে দৈহিক মেলামেশা করে নিহত কবির। যশোর আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর নিকট ১৭ মার্চ দেয়া ১৬৪ ধারায় জবান বন্দিতে গৃহবধুর জানায়, কবির তার ঘরে থাকা অবস্থায় রাতে সেখানে যায় মেহেদি হাসান মন্টু। মন্টু তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে কবিরকে মারপিট করতে-করতে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। এরপর রাতেই ঘাতক মন্টু মোবাইলে মুক্তাকে জানায় কবিরকে মারপিট করে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পরদিন ১০ মার্চ সকালে বাড়ির পার্শে¦ বাশারের ধান ক্ষেতে পাওয়া যায় কবিরের লাশ। কবিরের ঘাতক মন্টু এটা গৃহবধুর জবানবন্দিতে উঠে আসে বলে মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা এস আই রাব্বি সাংবাদিকদের জানান। হত্যার ৬ দিন পর ১৫ মার্চ রাতে হত্যা রহস্যের মূল ব্যক্তি গৃহবধু মুক্তাকে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা থেকে আটক করে কেশবপুর থানা পুলিশ নিয়ে আসে। এদিকে নিহত কবিরের পিতা আব্দুল করিম জানান ৯ মার্চ বিকেলে পিতা-পুত্র মিলে গ্রামের পার্শেই কেশবপুর উপজেলার চিংড়া বাজারে যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে মাগরিবের নামাযের পর ছেলে কবির তার পিতাকে জানায় আব্বা তুমি বাড়িতে চলে যাও। আমি পাশ্বের ঝিকরা গ্রামে ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে ,সেখানে ওয়াজ শুনে বাড়ি যেতে রাত হবে। পিতা ছেলের কথা মত বাড়িতে চলে যায়। রাত ১২টায়ও বাড়িতে না ফেরার কারনে বার-বার ছেলের মোবাইলে ফোন দিলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১০ মার্চ পাওয়া যায় তার লাশ।

নিউজবিজয়২৪.কম/এফএইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published.