দীপার হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও পুলিশ সুপার নিকট অভিযোগ

রেজাউল করিম রাজ্জাক, আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : দীপার হত্যাকারীদের বিচরের দাবীতে রবিবার দুপুরে আত্নহত্যা নয় দীপাকে (১৯) হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে দীপার বাবা ও ওই এলাকার শত শত নরী ও পুরুষ রাস্তায় ও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। লালমনিরহাট পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ প্রদান করে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের কমলাটারী গ্রামের কোকিলেশ্বর রায়ের একমাত্র কন্যা দীপা (১৮) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পাশর্^বর্তী চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের প্রকাশ চন্দ্র মিলন (কসাই) এর সাথে। একপর্যায়ে ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারী প্রকাশ দীপাকে পালিয়ে নিয়ে যায় ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। দীপাকে নিয়ে প্রকাশ নিজ বাড়ীতে বসবাস শুরু করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রকাশ ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না পেয়ে প্রকাশ তার উপর চালাতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। এ অবস্থায় গত গত সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে আবারও নির্যাতন চালানো হয় দীপার উপর। নির্যাতনে দীপার অবস্থা আশংকা জনক হলে তারা দীপাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ও লাশ ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রাখে। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে দীপার লাশ দাহ করে স্বামীর পরিবারের লোকজন।

এঘটনায় আজ দুপুরে দীপার বাবা ও ওই এলাকার সহশ্রাধিক মানুষ লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হন। তারা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র হস্তান্তর করেন। অভিযোগে বলা হয় দীপা আত্নহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। দীপার বাবা কোকিলেশ্বর ও আগতরা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল  হককে আরও জানান, দীপাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তা না নিয়ে জোরপূর্বক অন্যএকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। ক্যামেরার সামনে কথা না বলে পুলিশ সুপার জানান, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তে রিপোর্ট দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে লালমনিরহাট সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

দীপার বাবা কোকিলেশ্বর নিউজবিজয়কে জানান, ২০০৭ সালে শিয়ালখোওয়া এসসি উচ্চদ্যিালয়ে লেখাপড়ার সুবাদে বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী জাদুরাম কসাইয়ের ছেলে প্রকাশ চন্দ্র কসাইয়ের সঙ্গে দীপা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের বাবা অন্যত্র বিয়ে দিতে চাইলে প্রকাশরায় দীপাকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা দু’জনেই আত্নগোপন করে। পরে বিষয়টি জানানি হয়ে দুই পরিবারের মাঝে আপোস মিমাংসার জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক হলেও দীপার পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা না পাওয়ায় দীপার উপরে চালাতে থাকে নির্যাতন। একপর্যায়ে  গত সোমবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে প্রকাশ তার বন্ধু পল্লী চিকিৎসক হিতেন্দ্রকে নিয়ে গভীর রাতে নিজ বাড়ীতে যায়। পরে তার বাবা, ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ৬জন মিলে প্রথমে দীপার উপর নির্যাতন চালায়। এতে তার অবস্থা আশংকা জনক হলে শ্বাস রোধ করে দীপাকে হত্যা করে লাশ ঘরের ভিতর খাটের উপর হাটু বাকানো অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখে । খবর পেয়ে পুলিশ ৩০ জুলাই লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। দীপার বাবার অভিযোগ এঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলেও ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জোরপূর্বক অন্যএকটি কাগজে স্বাক্ষর নেন এমন অভিযোগ মেয়ের বাবার।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার ওসি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তে রিপোর্ট দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে লালমনিরহাট সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.