August 8, 2022, 10:23 pm

দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯,
  • 0 Time View

ঢাকা: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জেলার ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা এ ভোটগ্রহণ চলবে।

এসব উপজেলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোট উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

এ নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে ইসি। এ ধরনের অভিযোগে ৬ থানার ওসিকে ভোটের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায় নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে। পার্বত্য তিন জেলায় এসব বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ১২৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু এ ধাপে ভোট ছাড়াই ৪৮ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৬টি উপজেলার সবকয়টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় সেখানে ভোট হচ্ছে না। ৬টি উপজেলার ভোট অন্য ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বন্ধ আছে একটি উপজেলার ভোট।

দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ দফার নির্বাচনেও অংশ নেয়নি।

এদিকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য কমিশন কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। কেউ যদি অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ যদি কাজে অবহেলা করেন তবে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সচিব বলেন পক্ষপাতের অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিছু পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলির প্রস্তাব কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।

সেগুলো হচ্ছে- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি। এছাড়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বগুড়ার শিবগঞ্জ, নওগাঁর মান্দা ও বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কিছু অভিযোগ পেয়ে তা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি যার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

ঝুঁকি বিবেচনায় তিন পার্বত্য এলাকায় সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, তিন পার্বত্য জেলাতে আমরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছি।

ইতিমধ্যে সেখানে সেনাবাহিনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। শান্তিচুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে কিছু সমস্যা আছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে পাহাড়িদের মধ্যে একটি উত্তেজনা কাজ করে। তা প্রশমিত করার জন্যই সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় পুলিশ র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার মোতায়েন রয়েছে। ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ১২৯টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল থেকে গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলা সরিয়ে তৃতীয় ধাপে এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা সরিয়ে চতুর্থ ধাপে নেয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে নাজমুল ইসলাম নামে এক প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রতীক বরাদ্দের আদেশ থাকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে ইসি।

এছাড়া ৬টি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- নওগাঁও সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাই।

এছাড়াও আরও ১৭টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ৭টি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ৬টি উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওইসব পদেও ভোট হচ্ছে না। বাকিগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে।

জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩৭৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৪৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৯টি। ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন।

ইসি জানিয়েছে, শনিবার পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশ, আনসার সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। আচরণবিধি প্রতিপালন ও বিশৃঙ্খলা রোধে মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।

এছাড়া রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে তিন দিনের জন্য মনিটরিং সেল এবং নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ইসি সচিবালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরে দুই দিন মিলিয়ে ৫ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকছেন।

লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ থাকবে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫-১৬ জন নিয়োজিত থাকবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
themesbanewsbijo41