নতুন এমপিদের শপথ আজ

বিজয় ডেস্ক: নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আজ। সংসদ ভবনের সংশ্লিষ্ট কক্ষে বেলা ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপিদের শপথ পড়াবেন। কক্ষটির ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় সেখানে দুই দফায় শপথ হবে।

সংসদ সচিবালয় এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে। এর আগে মঙ্গলবার নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের প্রস্তুতি নিতে সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে।

বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আগে শপথ গ্রহণ করবেন। পরে স্পিকার হিসেবে তিনি নির্বাচিত অন্য সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার নিজেই নিজের শপথ পড়াবেন। শপথ শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক করে নিজেদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন।

বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নাও নিতে পারেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তারা ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নিতে হবে। তা না হলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো নির্বাচিত সদস্য শপথ না নিলে সেই আসন শূন্য হবে।

বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ না নিলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের অধিবেশন বসবে। তার ৯০ দিনের মধ্যে যদি কেউ শপথ না নেন বা কোনো প্রকাশ রেসপন্স না করেন, তখন সংসদ সচিবালয় থেকেই এই পদটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত না করলে বা শপথ না নিলে সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।

সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সংবিধানে বাধ্যবাধকতা আছে।

এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (২)-এর (১) দফায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের যে কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।’

নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। কাজেই গেজেট প্রকাশের দিন থেকে এক মাসের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দশম সংসদের মেয়াদ আছে।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। মোট ২৯৮ জন সংসদ সদস্যের নামে গেজেট জারি করা হয়।

বাকি দুটির মধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন হয়নি। এ ছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন করতে হবে বলে সেখানে ফলাফল স্থগতি রয়েছে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই জিতেছে ২৫৭টি আসনে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোট পেয়েছে ৭টি আসন।

বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ৫টি। নির্বাচনে এককভাবে ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে জাতীয় পার্টি। একাদশ সংসদে তারাই বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। তার পরের দিন ৯ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করে নির্বাচিত সদস্যরা। আর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জানুয়ারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.