পাট শাকের পুষ্টিগুণ

বিজয ডেস্ক:  পাটের শাক অনেক মানুষের প্রিয় শাকের তালিকাতে রয়েছে। পাটশাক খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি করে এবং মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে। পাট শাকে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন সি, ই, কে, বি- ৬ এবং ভিটামিন সি ও ক্যারোটিন, যা মুখের ঘা দূর করতে সাহায্য করে।

রাতকানা রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে এ শাক। কোষ্ঠকাঠিন্য ও বাতের ব্যথায় পাটশাক উপকারী। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বাতনিরোধক, ক্ষুধা বৃদ্ধিকারক, আমাশয় ও রক্ত পরিষ্কার করতে এ শাক মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধ করতে এবং দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন-পাটের পাতা থেকে অর্গানিক ‘চা’ এটি গ্রিন টির বিকল্প

আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কেন খাবেন পাট শাক। নিচে বিস্তারিত দেয়া হলো।

উচ্চ রক্তচাপ দূর: পাটশাকে বিদ্যমান পটাশিয়াম মানব দেহের শিরা উপশিরার বিস্তৃতি বাড়িয়ে রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এতে মানবদেহের উচ্চ রক্তচাপ দূর করতে সহায়তা করে।

ক্যানসার রোধ: পাটশাকে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে যেকোনো ধরণের ক্যানসার রোধে সহায়তা করে।

হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা:পাটশাকে থাকা উপাদান রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

নিদ্রাহীনতা দূর: পাটশাকে থাকা পর্যাপ্ত পরিমান ম্যাগনেশিয়াম শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে এবং নিরবচ্ছিন্ন নিদ্রা নিশ্চিত করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: পাট শাকের ভিটামিন এ, ই এবং সি শরীরের রোগ পতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন-সি রক্তের শ্বেত কনিকা বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন-এ, ভিটামিন ই চোখ, হৃদপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাড়ের বৃদ্ধি: প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড় গঠন ও ক্ষয়পূরণ করে এবং হাড়ভঙ্গুরতা রোধ করে।

শক্তি সঞ্চালন: পাটশাকে প্রচুর পরিমান আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সহায়তা করে। পাটশাকে থাকা আয়রন দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে।

হজম শক্তি: পাটশাকে থাকা খাদ্যআঁশ খাবার হজম প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে ত্বরান্বিত করে এবং পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বাতব্যথা দূর: ভিটামিন-ই গেঁটেবাত, আর্থরাইটস এবং প্রদাহ জনিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের জন্য পাট শাক একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য।

বাড়ন্ত শিশুর পথ্য: পাট শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম আছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বৃদ্ধির জন্য শিশু খাদ্য তালিকায় পাট শাক থাকা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon