প্রতিপত্তি কমছে নুসরাতের?

বিজয় ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের দু’জনের বেজায় গলাগলি। একে অপরের সব পোস্টে লাইক-কমেন্ট করবেনই। সামনাসামনিও তারা একে অপরের ‘বোনু’। কিন্তু নুসরাত জাহান এবং মিমি চক্রবর্তীর মধ্যে সব কিছু কি ঠিকঠাক? না কি গার্ল গ্যাংয়ের শেষ দুই সদস্যের বন্ধুত্বও এ বার ভাঙনের পথে?

বিষয়টা খুব সরল নয়। এর মধ্যে ‘পাওয়ার প্লে’ আছে। দুই নায়িকাই ইন্ডাস্ট্রির নামী প্রযোজনা সংস্থার মুখ। সেখানে তাদের অবস্থান কেমন, তার উপরে নির্ভর করছে দুই নায়িকার ব্যক্তিগত সমীকরণ। বেশ কিছু দিন ধরে শোনা যাচ্ছে, ওই প্রযোজনা সংস্থায় প্রতিপত্তি কমেছে নুসরতের। গত এক বছর ধরে তিনি সেখানে প্রায় একচ্ছত্র রাজপাট চালিয়েছেন। সবটাই যদিও প্রযোজকের ‘কাছের মানুষ’ হওয়ার সুবাদে। সেই কাছের মানুষই নাকি ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছেন! ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রভাব কমছে নুসরাতের। তার এই উত্থানের সময়ে মিমি কিন্তু স্রেফ ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ পর্যায়ে ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, মিমিই এখন ক্রমশ প্রযোজকের কাছের মানুষ হয়ে উঠছেন।

বিষয়টা নিয়ে প্রথম আলোড়ন শুরু হয় গত সেপ্টেম্বরে শগুফতা রফিকের ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ছবির ঘোষণার সময়ে। সেই ছবিতে যশের বিপরীতে প্রথমে কাজ করার কথা ছিল নুসরাতের। কিন্তু রাতারাতি সেই জায়গায় মিমিকে নিয়ে আসা হয়। অথচ ওই ছবির চরিত্রের সঙ্গে মানানসই হওয়ার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নুসরত।

সূত্র বলছে, ছবির ঘোষণার ঠিক আগের দিনই প্রযোজকের সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয় নুসরতের এবং বাদ পড়ে নায়িকার নাম। সেই ঝগড়ার কারণ ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে নানা মত উঠে আসছে। তবে দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব যে কাজেও পড়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

যদিও নুসরাত বলছেন, ‘‘শগুফতার অন্য একটি ছবিতে আমার কাজ করার কথা ছিল। দুটোর আলাদা স্ক্রিপ্ট।’’ সম্পর্ক খারাপের বিষয়টা মানতে চাইলেন না নুসরাত। বললেন, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও প্রযোজকের সম্পর্কই খারাপ হয় না। আমি কোনও ট্যানট্রাম দেখাই না, অ্যারোগ্যান্টও নই।’’

যে অভিনেত্রী ওই সংস্থার পরপর ছবিতে কাজ পাচ্ছিলেন, তাঁর হাতে চার-পাঁচ মাস ধরে কোনও ছবি নেই। ইন্ডাস্ট্রিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, নুসরাত নাকি অনেকের কাছে কাজের জন্য বলছেনও। ছোট ব্যানারের ছবি করতেও আপত্তি নেই তার। নায়িকাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘‘আমাকে প্রোডিউসাররা যে দিন ডাকবে সে দিন কাজ করব। এখন আমি শো নিয়ে ব্যস্ত আছি। টাকা রোজগার করতে হবে তো! জানুয়ারি মাসে ছবির কথা ভাবব।’’

উল্টো দিকে মিমি যে প্রচুর ছবি করছেন, এমনও নয়। হাতে এই মুহূর্তে শুধু ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ছবিটিই। কিন্তু নায়িকার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তাঁর প্রতিপত্তি ক্রমশই বাড়ছে। ছবি পাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

কাজের নিরিখে বিচার করলে কোনও নায়িকাই কিন্তু এগিয়ে নেই। দু’জনেই পরপর ছবি করে গেলেও হিটের ভাঁড়ার খালি। নুসরতের সাম্প্রতিক কালে কোনও হিট নেই। মিমির তাও ‘পোস্ত’র মতো সুপারহিট ছবি রয়েছে। আর বিজ্ঞাপনের বাজারেও মিমিই এগিয়ে। এর পর যদি তিনি ওই প্রযোজনা সংস্থার প্রথম পছন্দ হয়ে যান, তা হলে তো হয়েই গেল!

স্বাভাবিক ভাবেই নুসরতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করলেন মিমি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই। কী করে আরও ভাল কাজ করা যায়, সেটা ছাড়া আর কিছুই ভাবি না।’’ তিনি যে প্রযোজনা সংস্থার পছন্দের পাত্রী হয়ে উঠছেন সে ব্যাপারে কী বলবেন? ‘‘আমার পারিশ্রমিক যদি বাড়ে তা হলে বুঝব আমি ফেভারিট। নইলে আর কী হল! আর আমি মানুষটা যেহেতু ভাল, তাই সকলে আমাকে এমনিই পছন্দ করে,’’ জবাব মিমির।

এই গল্পের আরও কিছু দিক রয়েছে। টলিউড একটি গোলকধাঁধার নাম। এখানে কোনও কিছুই সোজাসাপ্টা নয়।

সূত্র অনুযায়ী, নুসরাত খানিক কোণঠাসা হলেও একেবারেই ব্ল্যাক লিস্টেড, এমন মনে করার কোনও কারণ নেই। এই ইন্ডাস্ট্রিতে হাওয়া বদলাতে বেশি সময় লাগে না। বিশেষত, যেখানে নুসরত খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর দেরি হওয়ায় একটু হলেই নুসরতকে থালি গার্ল করে দেওয়া হচ্ছিল আর কী! মিমিও অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর খুবই ঘনিষ্ঠ।

এই সব অন্দরের গোলমালের ছাপ কিন্তু বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। যাঁরই প্রতিপত্তি বাড়ুক, মিমি-নুসরত প্রকাশ্যে এখনও নিজেদের বন্ডিং অটুট বলেই চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর : আনন্দবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon