ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বদলগাছীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ‍্যে শেষ হলো হিন্দু ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা

হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো।

বছর ঘুরে আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভক্তদের ভারাকান্ত করে নৌকায় চড়ে সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এরই মধ্য দিয়ে দশমী তিথিতে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

গত বছর করোনার সংক্রমণ কারণে পুণ্যার্থীদের আনন্দ কিছুটা কম হলেও এবার ছিলো জমকালো আয়োাজন।
গত বছর উৎসবে ভাটা দেখা গেলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছোট যমুনা নদীর তীরে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়। একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিকেলে বিজয়া দশমীর পূজা অর্চনা ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দুপুরের পর থেকে মন্ডপগুলোর প্রতিমা যানবাহনে করে নৌকায় তোলা হয়।

উপজেলা সদর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু প্রতিমা নৌকায় করে বদলগাছী ছোট যমুনা নদীতে আনা হয়। প্রতিমাবাহী নৌকা ছাড়াও ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনসমূহের পঞ্চাশটির অধিক নৌকা নদীতে ভাসানো হয়। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে চলতে থাকে নৌবিহার।

এ সময় অনেক ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের।বুধবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দেবী বিসর্জনের লগ্ন শুরু হয়। ফলে সকাল থেকেই মন্ডপে মন্ডপে নামে ভক্তদের ঢল। এসময় মন্ডপে মন্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, নাচ, সিঁদুর খেলা হয়। মুখরিত হয়ে ওঠে মন্ডপ প্রাঙ্গণ। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।

একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। সকালে দেওয়া হয় দর্পণ ঘট বিসর্জন। এমনই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন স্বামীগৃহে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সব অপশক্তির বিনাশ হবে। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে যাবে সবখানে।

এ উপলক্ষে বদলগাছী ছোট যমুনা নদীর দুই পাড়সহ পুরো এলাকাজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় নৌবিহার শেষে সন্ধ্যায় উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণভাবে এ বছরের মতো শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে সেখানে বসে গ্রামীণ মেলা। উল্লেখ্য, এ বছর বদলগাছী উপজেলায় মোট ১০৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy24

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ
google.com, pub-9120502827902997, DIRECT, f08c47fec0942fa0

বদলগাছীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ‍্যে শেষ হলো হিন্দু ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা

প্রকাশিত সময়: ০৫:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো।

বছর ঘুরে আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভক্তদের ভারাকান্ত করে নৌকায় চড়ে সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এরই মধ্য দিয়ে দশমী তিথিতে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

গত বছর করোনার সংক্রমণ কারণে পুণ্যার্থীদের আনন্দ কিছুটা কম হলেও এবার ছিলো জমকালো আয়োাজন।
গত বছর উৎসবে ভাটা দেখা গেলেও গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছোট যমুনা নদীর তীরে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়। একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিকেলে বিজয়া দশমীর পূজা অর্চনা ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দুপুরের পর থেকে মন্ডপগুলোর প্রতিমা যানবাহনে করে নৌকায় তোলা হয়।

উপজেলা সদর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু প্রতিমা নৌকায় করে বদলগাছী ছোট যমুনা নদীতে আনা হয়। প্রতিমাবাহী নৌকা ছাড়াও ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনসমূহের পঞ্চাশটির অধিক নৌকা নদীতে ভাসানো হয়। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে চলতে থাকে নৌবিহার।

এ সময় অনেক ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের।বুধবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দেবী বিসর্জনের লগ্ন শুরু হয়। ফলে সকাল থেকেই মন্ডপে মন্ডপে নামে ভক্তদের ঢল। এসময় মন্ডপে মন্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি, নাচ, সিঁদুর খেলা হয়। মুখরিত হয়ে ওঠে মন্ডপ প্রাঙ্গণ। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।

একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। সকালে দেওয়া হয় দর্পণ ঘট বিসর্জন। এমনই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন স্বামীগৃহে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সব অপশক্তির বিনাশ হবে। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে যাবে সবখানে।

এ উপলক্ষে বদলগাছী ছোট যমুনা নদীর দুই পাড়সহ পুরো এলাকাজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় নৌবিহার শেষে সন্ধ্যায় উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণভাবে এ বছরের মতো শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে সেখানে বসে গ্রামীণ মেলা। উল্লেখ্য, এ বছর বদলগাছী উপজেলায় মোট ১০৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।