ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাত থেকে মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

  • অনলাইন ডেস্ক :-
  • প্রকাশিত সময়: ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২
  • 114

মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে। ৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ অক্টোবর রাত ১২ টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি বাংলা মাসের ২২ আশ্বিন থেকে ১২ কার্তিক পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। ফলে টানা ২২ দিন নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ। সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বাজারজাত ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

আইন অমান্যকারীদের কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্ব্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা সময়ে নদীতে সার্বক্ষণিক অভিযান এবং নজরদারি রাখবে মৎস্য প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান সফল করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিদফতর, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তারা অভিযান সফল করতে দিন-রাত কাজ করবে।

এর আগে, গতকাল বুধবার (৫ অক্টোবর) জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনার উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে থাকা অনেকে জেলে তাদের জাল এবং সরঞ্জাম নিয়ে ঘাটে চলে এসেছেন।

রামগতি বাজার সংলগ্ন মালিবাড়ি খাল মাছঘাটের বাসিন্দা ও ট্রলার মালিক নুর নবী বলেন, আমরা সাগরে মাছ ধরি। এক সপ্তাহ সাগরে মাছ ধরে বুধবার সকালের দিকে মাছঘাটে চলে এসেছি। অভিযান শুরু হয়েছে। এবারের জন্য আর সাগরে যাওয়া হবে না। তাই জাল মেরামত করে নিচ্ছি।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মাছ পেয়েছেন। তার ট্রলারে ১৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়োজিত রয়েছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান বলেন, ইলিশ সাধারণত সামুদ্রিক মাছ। তবে প্রজনন সময়ে এই মাছ নদীতে চলে আসে। আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমায় বেশিরভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে। এ সময়টাতে ইলিশ মাছ বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তাদের প্রজননও বাঁধাগ্রস্ত হয়। ফলে এসব ডিমওয়ালা মা মাছ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য জেলেদেরকে নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত রাখা হয়।

সারোয়ার জামান বলেন, একটি মা ইলিশ আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ ডিম দেয়। এই ডিম থেকে যে পরিমাণ ইলিশের পোনা জন্মে তা যদি ঠিকমতো বড় হওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে নদী এবং সাগর ইলিশ মাছে ভরপুর হয়ে যাবে। তাই জাতীয়ভাবে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর এই ২২দিন মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বিধান রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই আইন কার্যক্রর করা হবে। এছাড়া জেলেদের মাছ শিকারে বিরত রাখতে তালিকাভুক্তদের ২০ কেজি করে ভিজিএফ এর আওতায় চাল প্রদান করা হবে।

লক্ষ্মীপুরে একটি এনজিও সংস্থার হিসেব মতে, ওই জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার জেলে রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকে নদী এবং সাগরে মাছ শিকারে নিয়োজিত। এদের মধ্যে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭৭২ জন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে সেটিকে একেবারে অপ্রতুল্য বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

নিউজবিজয়/এফএইচএন

সকল সংবাদ পেতে ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন…

নিউজবিজয় ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

NewsBijoy24

নিউজবিজয়২৪.কম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উৎসর্গ করলাম আমার বাবার নামে, যাঁর স্নেহ-সান্নিধ্যের পরশ পরিবারের সুখ-দু:খ,হাসি-কান্না,ব্যথা-বেদনার মাঝেও আপার শান্তিতে পরিবার তথা সমাজে মাথা উচুঁ করে নিজের অস্তিত্বকে মেলে ধরতে পেরেছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

Nagad-Fifa-WorldCup

কুড়িগ্রামে চালু হলো এক টাকার রেস্টুরেন্ট

google.com, pub-9120502827902997, DIRECT, f08c47fec0942fa0

মধ্যরাত থেকে মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত সময়: ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে। ৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ অক্টোবর রাত ১২ টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি বাংলা মাসের ২২ আশ্বিন থেকে ১২ কার্তিক পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। ফলে টানা ২২ দিন নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ। সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, বাজারজাত ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

আইন অমান্যকারীদের কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্ব্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা সময়ে নদীতে সার্বক্ষণিক অভিযান এবং নজরদারি রাখবে মৎস্য প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান সফল করতে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিদফতর, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তারা অভিযান সফল করতে দিন-রাত কাজ করবে।

এর আগে, গতকাল বুধবার (৫ অক্টোবর) জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনার উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে থাকা অনেকে জেলে তাদের জাল এবং সরঞ্জাম নিয়ে ঘাটে চলে এসেছেন।

রামগতি বাজার সংলগ্ন মালিবাড়ি খাল মাছঘাটের বাসিন্দা ও ট্রলার মালিক নুর নবী বলেন, আমরা সাগরে মাছ ধরি। এক সপ্তাহ সাগরে মাছ ধরে বুধবার সকালের দিকে মাছঘাটে চলে এসেছি। অভিযান শুরু হয়েছে। এবারের জন্য আর সাগরে যাওয়া হবে না। তাই জাল মেরামত করে নিচ্ছি।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মাছ পেয়েছেন। তার ট্রলারে ১৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়োজিত রয়েছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান বলেন, ইলিশ সাধারণত সামুদ্রিক মাছ। তবে প্রজনন সময়ে এই মাছ নদীতে চলে আসে। আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমায় বেশিরভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে। এ সময়টাতে ইলিশ মাছ বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তাদের প্রজননও বাঁধাগ্রস্ত হয়। ফলে এসব ডিমওয়ালা মা মাছ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য জেলেদেরকে নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত রাখা হয়।

সারোয়ার জামান বলেন, একটি মা ইলিশ আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১২ লাখ ডিম দেয়। এই ডিম থেকে যে পরিমাণ ইলিশের পোনা জন্মে তা যদি ঠিকমতো বড় হওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে নদী এবং সাগর ইলিশ মাছে ভরপুর হয়ে যাবে। তাই জাতীয়ভাবে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর এই ২২দিন মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বিধান রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই আইন কার্যক্রর করা হবে। এছাড়া জেলেদের মাছ শিকারে বিরত রাখতে তালিকাভুক্তদের ২০ কেজি করে ভিজিএফ এর আওতায় চাল প্রদান করা হবে।

লক্ষ্মীপুরে একটি এনজিও সংস্থার হিসেব মতে, ওই জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার জেলে রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকে নদী এবং সাগরে মাছ শিকারে নিয়োজিত। এদের মধ্যে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭৭২ জন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে সেটিকে একেবারে অপ্রতুল্য বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

নিউজবিজয়/এফএইচএন