মরিচের ফলন নেই-দাম প্রচুর টানা বৃষ্টিতে মরিচ চাষে লোকসানে চাষিরা

রেজাউল করিম রাজ্জাক,আদিতমারী (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট আদিতমারীতে কাচাঁ মরিচের চাষ করে চাষীরা বেশ সুনাম রয়েছে। তারা বছরে কাচাঁ মরিচের চাষ প্রতিদিন ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করে লাখ,লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করে। যার ফলে বদলে যায় এখানকার কৃষকের জীবনযাত্রার মান। অন্যদিকে মহিলা শ্রমিকরা ক্ষেত থেকে কাঁচা মরিচ উত্তোলন করে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ টাকা রোজগার করছিল ফলে মহিলা শ্রমিকদের অনেকটা কদর বেড়ে গিয়েছিল।

সেই মুনাফা লাভের আশায় এ বছরও শত শত হেক্টর জমিতে কাচাঁ মরিচের চাষ করে কিন্তু গত দেড় সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষনের ফলে গাছ মরে যাওয়ায় লোকসানে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন এখানকার মরিচ চাষিরা। আবার যেখানে মরিচ গাছ আছে ফলন নেই।দামও প্রচুর। বর্তমানে বাজারে মন প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। দাম থাকলে কি হবে ফলনতো নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ভাদাই,সারপুকুর, ভেলাবাড়ী তার মধ্যে কমলাবাড়ী ইউনিয়নে বড় ককমলাবাড়ী, বাদিয়ার চড়া, শংকরটারী, চন্দপাট ও হাজিগঞ্জ এসব এলাকার চাষীরা শত,শত হেক্টর জমিতে কাচাঁ মরিচের চাষ করে ছেয়ে গেছে পাশাপাশি সবজি খ্যাত এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত। শুধু কাঁচা মরিচই নয় অত্র ইউনিয়নটি এখানকার উৎপাদিত পন্য স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

প্রথম দিকে প্রতিমণ কাঁচা মরিচ ৬/৭শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে থাকায় গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ফুল ফলসহ গাছ মরে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি তারা। লাখ টাকা খরচ করে এক একর জমি থেকে কাঁচা মরিচ বিক্রি করে মাত্র ৩০/৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে এখনকার কৃষকদেরকে। উচু এলাকা যেখানে পানি জমে থাকে না সে সমস্ত জায়গায় সাধারনত মরিচ চাষ হয়ে থাকে। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাঁচা মরিচের ফলন বেশি বেশ হয়েছিল তখন দাম কম ছিল।

কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ও ভারী বর্ষনের ফলে ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারনে প্রায় সমস্ত ক্ষেত মরে নষ্ট হয়ে গেছে। শত,শত কৃষক লোকসান হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে এখানকার কৃষকরা। এখানকার কৃষকদের দাবী, অতিবৃষ্টি না হলে তারা আরও বেশী লাভবান হবেন।

নিউজবিজয়কে চাষিরা জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে লাগানো মরিচ গাছগুলো গত দেড় সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে মরে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে ক্ষেতের মরিচ মরে যাওয়ায় চাষাবাদের খরচ তুলতে পারেননি তারা। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ চাষিরা।

এদিকে গাছ মরে যাওয়ায় দেশব্যাপী কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

সবজি ও মরিচ চাষ এলাকা খ্যাত উপজেলার বড় কমলাবাড়ির চাষীরা জানান, এই এলাকার জমি সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই প্রতি বছর বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে লাখ,লাখ টাকা উপার্জন করে চলে এ অঞ্চলের মানুষের সংসার।

বড় কমলাবাড়ী এলাকার কৃষক আকতার জানান, গত বছরের লাভের আশায় এ বছর অন্যর জমি বর্গা নিয়ে ২৭ শতক জমিতে কাচাঁ মরিচ চাষ করি এবং খরচ হয়েছ ১৫ হাজার টাকা মত এবং বিক্রি করে ৪ হাজার টাকার মত পেয়েছি। টানা বৃষ্টিতে সমস্ত ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছি।

একই এলাকার কৃষক নিউজবিজয়কে রইচ উদ্দিন জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ করে অর্ধ লক্ষাধিক টাকার মত খরচ করেছি প্রথম দিকে ফলনও বেশি ছিল ৬ থেকে ৭ টাকা মন প্রতি বিক্রি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পেয়েছি। ভেবেছিলাম পড়ে দাম পাব কিন্তু ভাগ্যর পরিহাস এখন দাম প্রচুর কিন্তু সমস্ত ক্ষেত টানা বৃষ্টিতে মরে লোকসানের পথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বাদিয়ার চড়া গ্রামের কৃষক নিউজবিজয়কে খুরশিদ আলম জানান, ক্ষেত আছে কিন্তু ফলন নেই। তার নিজস্ব ৩০ শতক জমিতে কাচাঁ মরিচের চাষ করে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মত। এ যাবৎ বিক্রি করে পেয়েছি প্রায় ১০ হাজার টাকা। তিনি বলেন টানা বর্ষনে পানি আটকে থাকার মরিচ ক্ষেতে ফলন নেই লাভে তো দুরের কথা লোকসান ছাড়া কিছুই পাব না।

মরিচ চাষি ব্যবসায়ী নিউজবিজয়কে সাইদুর রহমান জানান, বর্ষা আগে কৃষকের অনেক কাচাঁ মরিচ পাওয়া যেত এবং প্রতিদিন ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হত। এখন বাজারে মরিচের দাম ৫ হাজার টাকা কিন্তু এলাকাতে পাওয়া যাচ্ছেনা উঁচু এ অঞ্চলে কখনো বন্যা হয় না। তাই বন্যায় সারা দেশের মরিচ নষ্ট হলেও এ অঞ্চলের কাঁচা মরিচ সারাদেশের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু এ বছর টানা ভারী বৃষ্টিতে এ অঞ্চলের মরিচ ক্ষেত মরে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে,এ বছর উপজেলায় একশ ৩০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। আর অর্জিত হয়েছে ১১শত ৪৫ হেক্টর। তার মধ্যে কমলাবাড়ী ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য চাষাবাদ হয়েছে।

আদিতমারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নিউজবিজয়কে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ক্ষেতে পানি না জমলেও টানা বৃষ্টিতে জমি ভেজা থাকায় মরিচ গাছ মরে যায়। আর অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারনে পরাগ রেণু পড়ে যাওয়ায় পরাগায়ন ঠিকমত না হওয়ায় গাছের ফলন হচ্ছে না। কিছু গাছ পানি সহ্য করতে পারলেও অধিকাংশ মরিচ গাছের পাতা পচে ঝড়ে পড়ে এবং গাছ মরে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.