মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা : সন্দেহভাজন পপি আটক

বিজয় ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আটক করা হয়েছে এ মামলার প্রধান আসামি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিকে। এ ছাড়াও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জোবায়ের আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার জোবায়ের সোনাগাজী পৌরসভার তুলাতলি এলাকার আবুল বশারের ছেলে। পপি অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের সহপাঠী। নুসরাতের মতো পপিও এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তারা জোবায়েরকে গ্রেফতার করেন। পরে রাতেই সোনাগাজী পৌর এলাকার চনচান্দিয়ার বাসা থেকে পপিকে আটক করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজনসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো; যাদের মধ্যে ৭ জন কারাগারে এবং বাকিদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত। এ সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে- এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে বোরকা পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানির মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সম্পূরক এজাহার দাখিল করেছেন।

এর আগে নুসরাতের মা বাদী হয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তাকে ২৭ মার্চ গ্রেফতার করে। তিনি এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

শনিবার ঘটনার পর পরই রবিবার রাতে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আফসার উদ্দিন ও আলিম পরীক্ষার্থী আরিফকে আটক করা হয়। তখন এ ঘটনায় মামলা না হওয়ার কারণে পুলিশ দুজনকে পরদিন সোমবার ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠয়। আদালত তাদের জেলহাজাতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার এ ঘটনায় আরও সাতজনকে আটক করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাদের সবাইকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত এর মধ্যে চারজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁরা হলেন আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্লা, নুর হোসেন ও শহীদুল ইসলাম। বাকি তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon