রংপুরে ধর্ষণের ১৪ বছর পর রায়, আসামির যাবজ্জীবন

রংপুর: রংপুরে ধর্ষণের ১৪ বছর পর বিচার পেল স্কুলছাত্রী। বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১৩ বছর ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আসামি ও বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় হলো। আসামি জাকিরুল ইসলাম মিলন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি করছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৪ জুলাই আসামি মিলন জ্বরে আক্রান্ত মায়ের মাথায় পানি দেয়ার জন্য প্রতিবেশীর স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাত বেঁধে ধর্ষণ করেন। ঘটনার নয় দিন পর মিলনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে মামলা দায়ের করেন তার বাবা। ওই মামলায় আসামি ও বাদীপক্ষের ১৫ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জাকিরুল ইসলাম মিলনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে নির্যাতিতা ওই ছাত্রীকে প্রদানের নির্দেশ দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, ঘটনার সময় আসামি মিলন কৃষি ডিপ্লোমা নিয়ে পড়াশুনা করতেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এই রায়ে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছেন। এতে করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রশীদ চৌধুরী ও এমদাদুল হক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon