রাত পোহালেই ১১৬ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

ঢাকা: পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সোমবার (১৮ মার্চ) ১৬ জেলার ১১৬ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে। এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী মালামাল কেন্দ্রে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রংপুর, গাইবন্ধা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও সিলেটসহ ১৬ জেলার ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অস্থিরতা বিরাজের বিষয়টি আমলে নিয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২৫ উপজেলার ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৭৭ জন প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান ৫৩৯ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৯৪ জন লড়াই করছেন। ২৩ জন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ১৩ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও প্রার্থী ও ভোটারদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে গত শনিবার থেকে মাঠে নেমেছে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের পরেও দুই দিন মাঠে থাকবেন তারা। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ থাকবে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভেদে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৪ জন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন নিয়োজিত থাকবে। আর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রতি এলাকায় দুই থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব এবং কোস্টগার্ড, পুলিশ, আমর্ড পুলিশ মোতায়েন থাকছে। এছাড়া রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে তিন দিনের জন্য মনিটরিং সেল এবং নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ইসি সচিবালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী (উপজেলায়) এলাকায় ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ও চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোট হবে। ঈদের পর জুনে পঞ্চম ধাপের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮০ টিতে এবার ভোট হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ১২টি উপজেলায় এবছর ভোট হবে না। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ- মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশ গুলোতে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন করতে হচ্ছে।

১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon