লালমনিরহাটে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

বিজয় ডেস্ক: সরকারি নিষেধ অমান্য করে লালমনিরহাটে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ২৫টি ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে। জমির মালিকরা তাদের জমির মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভাটা মালিকদের কাছে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ভাটার মালিকদের ব্যক্তিগত নিয়োগকৃত এজেন্ট বা দালাল এবং এক শ্রেণির ভূমি দস্যু কৃষকদের সাথে ছলচাতুরী করে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।

কৃষি জমি থেকে এভাবে ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য যে পুষ্টির প্রয়োজন তা সাধারণত মাটির উপরিভাগে থাকে। যা উদ্ভিদ বা ফসলের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমি থেকে এসব পদার্থ চলে যাচ্ছে ইট ভাটায়। যা ফসলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।

লোভে পড়ে এই মাটি বিক্রি করছেন জমির মালিকরাও। এতে মাটি হারাচ্ছে নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস, পটাসিয়ামসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

কৃষি বিভাগ বলছে, মাটি কাটা বন্ধ না হলে ফসল উৎপাদন কমবে। আর উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।

টপ সয়েল, অর্থাৎ মাটির উপরিভাগের ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। কৃষকরা বলছেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাকে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে মাটি হারাচ্ছে নাইট্রোজেন, কার্বন, ফসফরাস, পটাসিয়ামসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

লালমনিরহাট জেলার কুলাঘাট,বানিয়ারদীঘি, হালা বটেরতল, সাপটিবাড়ি, দৈলজোর, আদিতমারী, হাতীবান্ধাসহ প্রায় ২৫টি ইটভাটার বিরুদ্ধে, এভাবে টপ সয়েল কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের দাবি, যে জমিতে একসময় ১২ মন ধান হতো, উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ায়, সেই জমিতে ধানের উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে।

এ বিষয়ে ইটভাটার মালিকরা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, মাটি কাটা বন্ধ না হলে ফসল উৎপাদন কমবে।

আর ওইসব জমি পুনরায় চাষাবাদ উপযোগী হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। টপ সয়েল কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon