সংখ্যালঘু ‘উধাও’, অভিযোগের যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রিয়া

বিজয় ডেস্ক: বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে করা এনজিও ‘শারি’র পরিচালক। তার উদ্ভট এ অভিযোগের পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এমতাবস্থায় আমেরিকাতেই এক সাংবাদিককে দেওয়া প্রিয়া সাহার ৩৫ মিনিটের এক সাক্ষাৎকার রোববার (২১ জুলাই) ইউটিউবে প্রকাশ করেছে ঢাকায় তারই এনজিও ‘সারি’। যেখানে তিনি তার দেওয়া বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তিন কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এই পরিসংখ্যান তিনি কোথায় পেলেন- এই প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, সরকারী পরিসংখ্যান থেকে তিনি এই তথ্য দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালের পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘুদের ওপর একটি চ্যাপ্টার রয়েছে। সেনসাস (আদম শুমারি) অনুসারে দেশভাগের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৯.৭ শতাংশ। এখন তা কমে ৯.৭ শতাংশ।

প্রিয়া সাহা বলেন, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত ২০১১ সালে এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৬৩২ জন সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের লোক ‘হারিয়ে যাচ্ছে’। ঐ গবেষণা কাজের সাথে আমিও জড়িত ছিলাম। সুতরাং আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত।

৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু বাংলাদেশ থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছে এমনটা বোঝাতে চাননি দাবি করে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। শব্দের প্রতিটা বিষয় যে আমরা অবগত তা নয়। আমি যেটা বোঝাতে চেয়েছি সেটি হলো-এই পরিমাণে লোক থাকার কথা ছিল। যদি স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া, যেভাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেই একইভাবে যদি ধর্মীয় সংখ্যালঘু ২৯.৭ শতাংশ থাকতো তাহলে এই জনসংখ্যা হতো। কিন্তু তা নাই। এই যে ক্রমাগতভাবে কমে গেছে, এটা যে নাই কেন সেটাই আমি বোঝাতে চেয়েছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাইনি। আমি শুধু নিজের গ্রামের কথা বলি। আমার বাড়ি পিরোজপুরে। সবাই জানেন, সেখানে ২০০৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৪০টি পরিবার ছিল। এখন মাত্র ১৩টা পরিবার আছে। আমার গ্রামের মানুষগুলোকে আমি দেখেছি। এই মানুষগুলো কোথায় গেলো, কোথায় আছে, সে তো আপনাদের দেখার কথা বা আমার রাষ্ট্রের দেখার কথা। সেটা যদি আপনি আমার কাছে জানতে চান, তাহলে কেমন হবে দাদা?

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সাংবাদিকের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া বলেন, ‘আপনি আমার গ্রামে গেলে দেখে আসবেন প্রত্যেকের বাড়িঘর, কোন কোন বাড়িতে কে ছিল। প্রত্যেকের ভিটা পড়ে রয়েছে। ওই গ্রামে যদি আপনি যান প্রত্যেকের ঠিকানা, নাম, কার কী ছিল-না ছিল আপনি খুঁজে আসতে পারবেন। ৪০টি পরিবার ছিল এখন ১৩টা পরিবার আছে। ওইখানটায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, ২০০৪ সালে থেকে ক্রমাগতভাবে তারা চলে গেছে।’

আমি ভালো নেই

সাক্ষাৎকারের শুরুতে প্রিয়া সাহাকে খুবই উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ভালো নেই। পরিবার সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বাসার সামনে কাল মিছিল হয়েছে। তালা ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে। পত্রিকায় আমার পরিবারের ছবি ছাপিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে।’

দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন প্রিয়া সাহা।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে, তাদের সুরক্ষার জন্য তৎকালীন বিরোধী নেত্রী এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বহু দেশে ঘুরেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই এসব কথা বলেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো জায়গায় কথা বলা যায় – আমি তার কাছ থেকে শিখেছি।

কীভাবে ওয়াশিংটনে গেলেন

পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশে গিয়ে নষ্ট করা হয়েছে – সোশ্যাল মিডিয়াতে এ ধরনের বিভিন্ন মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রিয়া সাহা বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমেরিকায় যান।

তিনি জানান, ঐ অনুষ্ঠানের মাঝে হঠাৎ করেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার কথা বলা হয়।

তিনি বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাননি এবং সংগঠনের নেতারাও তার সফরের কথা জানেন না।

উল্লেখ্য যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঐ অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ছাড়াও দু’জন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিও ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon