হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে প্রাণ গেল একজনের

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে প্রাণ গেল মিটার রিডার আবুল কাশেমের(৩০)।সোমবার রাতে বিদ্যুৎ স্পূষ্টজনিত কারনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই মিটার রিটার মারা যান। মঙ্গলবার রাতে জানাযা শেষে তাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তার বাড়ীতে এখন শোকের মাতম। রোববার পশ্চিম সারডুবি হাফেজ বজলুর রহমানের মাজার সংলগ্ন শাহআলমের বাড়ীতে বিদ্যুৎ দূর্ঘটনার শিকার হন আবুল কাশেম। স্বামীর অকাল মুত্যুতে ৫ মাসের অন্ত:সত্তা স্ত্রী আইরিন বেগম এখন পাগলপ্রায়।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের হাতীবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী অনিত কুমার রায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিচারক ওয়াজ কুরুনী সজিবকে নিয়ে অভিযানে যান উপজেলার বড়খাতা ও গড্ডিমারী ইউনিয়নে। সেখানে বকেয়া বিল গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ করতে শাহআলমের বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। তার বাড়ীর বকেয়া বিল ছিল ৭২ হাজার টাকা। শাহআলম বড়খাতা হাফেজ বজলুর রহমানের মাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। লাইনম্যান থাকার পরও শাহ আলমের বাড়ীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পোলে উঠার জন্য বলা হয় মিটার রিটার আবুল কাশেমকে। অদক্ষতার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ তায়িত হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন আবুল কাশেম। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সোমবার রাতে চিকিৎসারত অবস্থায় রংপুর হাসপাতালে আবুল কাশেম মারা যান। মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আবুল কাশেমের ছোটভাই আমিনুর রহমান বলেন, আমার ভাই মিটার রিটারের কাজ করতেন। কিন্তু লাইনম্যানের কাজ তার জানা ছিলনা।বিদ্যুৎ বিভাগের হাতীবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী অনিত কুমার রায় তাকে দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাতে গিয়ে আমার ভাই মারা গেলেন।বিদ্যুৎ ¯পষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন আমার ভাইয়ের খোঁজ খবরটুকুও রাখেনি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা।হাতীবান্ধা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, আবুল কাশেমের অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হাতীবান্ধা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিত কুমার রায় বলেন, আবুল কাশেমকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়নি। সে নিজের ইচ্ছায় পোলে উঠতে গিয়ে এ দূর্ঘটনায় পড়েছে। এটা একটা দূর্ঘটনা। বিদ্যুৎ বিভাগের বিচারক ওয়াজ কুরুনী সজিব বলেন, শাহ আলমের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশের আগেই আবুল কাশেম নামের ওই ব্যক্তি পোলে উঠতে গিয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নিউজবিজয়২৪.কম/মো: ফারুক হোসেন (নিশাত)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Right Menu Icon