“হিমবাহ ও রুক্ষমাটি” চিত্তরঞ্জন গিরি

হিমবাহ ও রুক্ষমাটি
– চিত্তরঞ্জন গিরি

হয়ত প্রেসার সুগারের ভূগর্ভে বার্ধক্যেরই কম্পন
তার সাথে গোধূলিতে অনিশ্চিত আলো সুখ
তবুও পোড়ামাটি সজীবতা চায়
তাই শীর্ণদুটিহাত থরথর কাঁপুনিতে
আয়ুর খোঁজে উন্মুখ !
হাতের তালুতে যত হৃদয় কুড়িয়ে পাওয়া যায়
সমুদ্রের মোহনাতে যতক্ষণ পৌঁছনো না হয়
শীর্ণকায়া মজে যাওয়া নদী
ধীরে ধীরে স্রোত ফিরে পেতে
পথকে আপন করে পথের ঠিকানায় ।
বাহিরে শীতল ঠান্ডা হাওয়া
ভিতরে জ্বলে শুধুই আগুন -ধীর উষ্ণতায়
মেঘ পাহাড়ের গুমোটি তাপে ধিকি ধিকি
বিষাক্ত মরমি যন্ত্রনায়!
গানের ইন্দ্রধনু একদিন পৃথিবীর বুকে
কত সবুজ এঁকেছিল !
আজ সেই উর্বর জমিতেই ঠাঁই নেই
ললাটের চন্দনে লেগেছে -অমাবস্যার গ্রহণ যোগ !
দৃঢ় শক্তভূমি কাঁদে নীরবতায় এইভাবেই অভুক্ত বেদনায় ।

কত স্রোত তো বয়ে যায় কত জল নিয়ে
হিমবাহ ,তুমি কি সন্তান প্রসবিনী নও ?
তোমার হাতেই তো অসংখ্য খালবিল নদী পুষ্ট হয় !
আড়ালে ধীরে ধীরে অমৃতসুধা বও
কাল বিভাজিকার স্থানান্তরে -চন্দ্রকলা ও গ্রহণ
যেকোন প্রানেরই স্পন্দন ।
শীত বসন্তের আসরে ,ঘূণ ধরা পাথরের চৌহদ্দিতে
লাগুক ধীরে ধীরে আত্মিক উন্মেষিয় জাগরণ ।

চাই নদীর দোয়াব আর বৃষ্টির মেঘ
পাথরেও বাঁচুক গুল্মলতা
মরুভূমির ক্যাকটাসে লাগুক দক্ষিণী হাওয়া
হৃদয়ের ধূলিকনায় ছুঁয়ে যাক
মিঠেল রোদ্দুরের অমৃত ব্যাকুলতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.